আপনে সুন্দর

কোনো এক বসন্তে আপনেরে দেইখা কেউ যদি ফুলের উপমা দেয়,
আপনের চোখে শীতের জীর্ণতা মুইছা যাওয়ার গপ্প শোনায়,
যদি সবুজ পাতার নতুন আবেগ ফোঁটানো গাছ হইয়া যায় আপনেরে দেইখা-বসন্তের কোকিলের লাহান।

অপরুপ সৌন্দর্যের ঘোষনা কইরা মরে যদি কেউ
বারবার; শতকোটিবার!
যদি ভোরের আলোর মইধ্যি বইসা চাঁদের উপমা দৌড়ায়।
যদি কেউ কয়,’তুমি হইলা চৈত্র মাসের সূর্যের লাহান স্পষ্ট, উজ্জ্বল, দীপ্ত আর দেদীপ্যমান’
তইলে জানবেন আপনের সৌন্দর্য কেউ দেখবার পারে নাই।
বুঝবার পারে নাই!

আপনার লাগি অনুভবে অনুরাগ খুঁইজা পায় নাই, কেউ
কেউ’ই সত্য সত্যই আপনের প্রেমে পড়ে নাই,
ভালোবাসার নদে নোঙর ফেলে নাই কেউ’ই।

আপনে হইলেন অন্যরকম সুন্দর; আপনের চোখে ঝইরা পড়া শ্রাবণের অথৈ মায়ার জলে,
বুকের কোণে জইমা থাকা মমতার কালো মেঘের কোলে,
কালবৈশাখের মতন জীবনের ঝরো হাওয়ায় বনে
শীতের শুষ্ক ঠোঁটে, উষ্ণ শরীরে চেয়ে থাকা আকাশ পানে।
দু’চোখে নির্লিপ্তায়; আপনে সুন্দর।

আপনে সুন্দর; নিঃস্ব মানুষের ভেতর!
দু’মুঠো শূন্যতার হাহাকারে ডুবে থাকা মানুষ যখন নিথর নিরাবেগ, নিকারন বেঁচে থাকা, নিঃস্ব নিরবতায়।
ঝরো হাওয়া বজ্রপাতে টিমটিমে আলোর ঘরে,
নিয়ন শহরের রাস্তায় হলুদ পাড়ে ঘেরা হলুদ নারী।

কপালে কালো টিপ, মৃদু বাতাসে উড়ে যাওয়া চুলে গুটিগুটি পায়ে হেঁটে ফেরা,
টানা দু’চোখে কি যেন এক মায়ার টান, কি যেন আদুরে বানে; আপনে সুন্দর।

আপনে প্রেম বেদনার মত অপ্রকাশ্য কবিতার লাহান সুন্দর!
কখনো শরতের আকাশের মত নিশ্চুপ কখনো বজ্রপাতের চিৎকার।

মাইঝে মইধ্যি আমার আপনেরে ঢের চেনা লাগে
কোনো এক কাল মহাকালের ভেতর আমাগো পরিচয়।
কতবার নদী দেখতে গেলাম, কতবার পাহাড়, কত ঝর্ণার জলে মুখ চুবাইলাম আমরা।
কতবার হারাইলাম দূরে, কত রৌদ ফুঁটেছে সমুদ্দর।

হঠাৎ কোনো একদিন গ্রামের কোনো পথ ধইরা আপনে হাঁইটা গেলে পাখিরা কেমন আদুরে এক সূরের টান ধরে,
অরণ্যের ভেতর সবুজ পাতার আবেগ ঝড়ে ফুলে
কত চোখ মায়ার কবিতা লেখে, কত আঙ্গুলে গল্প ঝইড়া যায়।
কত ছন্দে আপনে সাজেন, কত স্বরবর্ণে লেখা গানে
কখনো কখনো আপনে কবিতায় কবিতায় ফিইরা আসেন।
মাইঝেমইধ্যি কত কবিতায় চইলা যান দূরে।

Leave a Comment