একটি বাংলাদেশ তুমি জাগ্রত জনতা

তাঁর নাম জানার কথা একবারও মনে হয়নি?

একটি বাংলাদেশ তুমি জাগ্রত জনতার । সারা বিশ্বের বিস্ময় তুমি আমার অহংকার। এই গানের কথা লিখে বিজয়ের মাসে অনেকেই স্ট্যাটাস দিচ্ছেন।

দেশের প্রতি ভালোবাসা প্রকাশ করতে আমরা এই গান ছাড়াও বাজাই ‘সব কটা জানালা খুলে দাও না , আমায় গেঁথে দাও না মাগো একটা পলাশ ফুলের মালা।
হলফ করে বলতে পারি বেশির ভাগ মানুষ জানেন না উপরের তিনটি গানের স্রষ্টার নাম । অমর গানগুলো লিখেছেন গীতিকবি ও মুক্তিযোদ্ধা নজরুল ইসলাম বাবু।
একুশে ফেব্রুয়ারি, ছাব্বিশে মার্চ, ষোলোই ডিসেম্বরের জাতীয় থেকে স্থানীয় যেকোনো সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এ গানগুলো ছাড়া পূর্ণতা পায় না। অথচ তাঁর মতো প্রতিভাধর ও কালজয়ী গীতিকবির কোনো রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি মেলেনি আজও।
১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধে ১১ নম্বর সেক্টরে তুরার পাহাড়ে বসে যুদ্ধপ্রশিক্ষণের অবসর মুহূর্তে গান লিখতেন। মুক্তিযুদ্ধের সময় ক্যাম্পের ভয়ংকর এবং কঠোর জীবন নজরুল ইসলাম বাবুকে পরবর্তী সময়ে সম্পূর্ণ কবি করে তোলে। ভারতে ট্রেনিং শেষে দেশে ফিরে স্বাধীনতাযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। কলম ও অস্ত্র দুটোই সমান দক্ষতায় চালাতেন বাবু।
১৯৪৯ সালের ১৭ জুলাই জামালপুর জেলার মাদারগঞ্জের চরনগর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন নজরুল ইসলাম বাবু। বাবা বজলুল কাদের ছিলেন স্কুলশিক্ষক। মা রেজিয়া বেগম গৃহিণী। বাবা বজলুল কাদেরের সংগীতের প্রতি অনুরাগ ছোটবেলা থেকেই বড় সন্তান নজরুল ইসলাম বাবুকে প্রভাবিত করে। চার ভাই, পাঁচ বোনের মধ্যে বাবু ছিলেন সবার বড়।
স্থানীয় স্কুলে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত লেখাপড়া করে মামার কর্মস্থল বরিশালে চলে যান। বরিশাল বি এম স্কুল অ্যান্ড কলেজে মাধ্যমিক এবং পরে জামালপুরের আশেক মাহমুদ কলেজ থেকে উচ্চমাধ্যমিক ও বিএসসি ডিগ্রি নেন। শাহীন আক্তার এর সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন ১৯৮৪ সালে। ১৯৯০ সালে ১৪ সেপ্টেম্বর তিনি মারা যান। তখন মাত্র ৪১ বছর বয়স ছিল তাঁর।
১৯৯১ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত পদ্মা মেঘনা যমুনা চলচ্চিত্রের গীত রচনার জন্য তিনি শ্রেষ্ঠ গীতিকার বিভাগে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার লাভ করেন।
ক্রমান্বয়ে ছবির বর্ণনা: স্ত্রীর সঙ্গে তিনি। তাঁর হাতে লেখা গান‌।

Leave a Comment