জীবন টা আসলেই সুন্দর

প্রিয় মানুষের দেয়া আকাশ ভাঙা কষ্ট নিয়ে দিব্যি হাসিমুখে আপনার সাথে কথাবলছে,
হাসছে-এমন মানুষ নিশ্চয় দেখেছেন। আপনার মজার কোন কথা শুনে অনেক মানুষের
মধ্যে দেখবেন ঐ মানুষটাই বেশি হাসছে।
আপনি হয়তো এক সময় জানতে পারলেন তার আকাশ ভাঙা কষ্টের কথা।
আপনার বা আমার কাছে তখন তার “কষ্ট রোগ”এর সহজ সমাধানও রেডি থাকে।
“যে চলে গেছে, তাকে ভুলে সুখে থাকুন। “
আসলেই ভুলে যাওয়া যায় তো?
যার সাথে আপনার ভালোবাসা হয়েই গেছে,
তাকে ঘিরে একটা ম্যাগনেটিক ফিল্ডও তৈরি হয়ে গেছে ইতিমধ্যেই।
তাহলে কিভাবে সম্ভব?
আপনি টেকনাফ থেকে তেতুলিয়া ঘুরে এলেও আপনার শারীরিক আর মানষিক বিশ্রামস্থল ওই একজনে গিয়ে ই স্থির হবে।
প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের চমৎকার সব স্মৃতি মাণষপটে আসার আগেই, সেই মানুষটির স্মৃতি আপনাকে তাড়া করবে খুব করে।
কারন ছাড়াই খারাপ হয়ে যাবে মন। এরপর তা বাড়তেই থাকবে পারদের গতিতে।
প্রায় ৭৫ ভাগ এমন ‘রোগী’ মন ভালো নেই, ভাল্লাগছে না টাইপের সমস্যায় ভুগছে। যার একাংশ নিজেরাই জানে না, মন খারাপের কারণগুলো। ব্যাপার টা আদ্ভুত না?
ঘুম থেকে উঠে দেখা গেলো, চমৎকার সকাল, ঝিরিঝিরি বাতাস, ঝলমলে রোদ….তারপরও মন ভালো নেই।
কারন?
জানা নেই। 
ভালোবেসে যাকে নিজের আকাশ টা যত্ন করে রাখতে দিয়েছিলেন,
টুকরো টুকরো স্বপ্নের মালা গেঁথে গলায় পড়িয়েছিলেন,
সে ই একদিন আপনার আকাশ টা নিয়ে চলে যাবে।
স্বপ্নের মালাটা টেনে ছিঁড়ে আপনার পায়েই ছুঁড়ে মারবে!
যার আদরের পরী ছিলেন, বন্ধুদের মদের আড্ডায় আপনি ই হয়ে যাবেন খারাপ।
আদর করে বাবু নামে ডাকা ছেলেটার নামের আগে বিশেষন দিয়ে দেবেন বাস্টার্ড।
অদ্ভুত? উঁহু মোটেই অদ্ভুত না।
তারপরও কোন এক ঝড়ের রাতে সেই পরীকে ভেবেই চোখের কোনে বৃষ্টি নামবে।
অন্ধকার রুমের দেয়ালে হেলান দিয়ে বসে, সেই বাস্টার্ড ছেলেটির জন্য ই হাতের শিড়া বেয়ে গড়িয়ে পড়বে উষ্ণ রক্ত।
মন ভালো করতে আপনাকে নানা কারণ খুজে নিতে হবে, তবে খারাপ করার জন্য ওই অনুভূতি মাখানো স্মৃতি ই যথেষ্ট।
জীবন টা পাঁচ টাকার খিলি পান কিনে ঠোঁট লাল করার মতো সহজ না।
চুন নেয়ার সঠিক কৌশল না জানলে, পরের ভোগান্তির স্বীকার আপনাকেই হতে হবে।
জীবনে এসে এলোমেলো করে দিয়ে যাওয়া মানুষগুলোকে সত্যিই ভোলা যায় না। ভুলে গিয়ে সুখী ও হওয়া যায় না।
শুধু শিক্ষা নেওয়া যায়…
আপনার সচেতন মনের কনট্রোল যেমন আপনার কাছে, ঠিক তেমনি অবচেতন মনের কন্ট্রোল ও নিজেকেই করতে হবে।
ভাল্লাগছে না আর অকারণে মন খারাপের সমস্যা থেকে বাঁচতে হলে, তার সঠিক ঔষধ আপনার চেয়ে ভালো কেউ দিতে পারবে না।শুনতে অদ্ভুত হলেও সঠিক, আপনার মনের সবচেয়ে ভালো
চিকিৎসক আপনি নিজেই …
একসময় দেখবেন হঠাৎ করেই জীবনের মোড় পরিবর্তন হয়ে গেছে …
ঘুম ভেঙ্গে দেখলেন, একটা চমৎকার সকাল, ঝিরিঝিরি বাতাস, ঝলমলে মিষ্টি রোদ….
জীবন টা আসলেই সুন্দর।

Leave a Comment