দাফন

নর্দমায় মৃত্যুর গন্ধ।

ছেলেটি কখনো ময়লাতে আঙ্গুল রেখেও দেখেনি, ধবধবে ফর্সা ত্বক নিয়য়ে বরাবরই ছেলেটি গর্ব করতো।

শরীরের পোষাক নির্বাচনে সে বড়ই রুচিবান,

কালার ম্যাচিং, নিখুত ভাজের পোষাক,

শরীরের সাথে সামঞ্জস্য করা পোষাকের সেলাই।

জাস্ট টপ টু বটম অভিজাত্যে ভরপুর।

শত মেয়ের ক্রাশ, ইয়াং জেনারেশনের আইডল।

ছেলেটি প্রচলিত চারটা ভাষায় সমান দক্ষ(বাংলা,ইংরেজী,চাইনিজ,হিন্দি)

শব্দ চয়নে সে বড়ই চতুর বাক্যের তৈরির কারিগর।

দারুন লেখক।

জাস্ট ওয়াও টাইপের একজন মানুষ।

মেয়েটির থাকার রুম প্রতিদিন দুইবেলা ফিনাইল দিয়ে ধূয়া হতো।

বডি ম্যাসেজ,ফ্রেস ক্লিনিং করার জন্যও পার্লারে গমন করতো।

হাই সোসাইটির।

কোকিল কন্ঠ,

নৃত্যকলাতে তার অপূর্ব দক্ষতা

অমলিন হাসি, আটসাট দেহ সে পুরুপুরি চাওমিং একজন নারী।

এরা কেউ কখনো খাবার খেয়ে প্লেটের পানিও ফেলেনি।

কাজের লোকজন সারাক্ষন দরজার বাহিরে দাড়ানো থাকতো।

বিনা অনুমতিতে কেউ দেখা করার অনুমতি পেতনা।

ছেলেটার রুচির সাথে মেয়েটির রুচি মিলে যায়। ভাগ্য এদের একবার পরিচয় করিয়ে দিলো ।

একদিন বিমানে দুজন পাশাপাশি ছিটে বসেছে। পরস্পরে মুগ্ধ,

খুব কম সময়ে একজন আরেকজনের কাছে চলে এসেছে। মনে হচ্ছে এরা একে অন্যের জন্যই সৃষ্টি।

হঠাৎ বিমানে আগুন ধরে গেলো

বিমান দূর্ঘটনায় সব যাত্রী ঝলসে গেলো,মরা গেলো তৎক্ষনাত।

অবশিষ্ট দেহ নর্দমায় পড়ে আছে।

ছেড়া কাটা দেহ গুলি সব একই রকম দেখতে কোন পার্থক্য নেই।

এদের কঙ্কালের কোন রং নেই। সব দেহ একই রকম।

সবাই একই রকম মাটির কবরেই দাফন হযেছে, একই রকম সাদা কাফনে একই পদ্ধতিতে।

পার্থক্য শুধু বেঁচে থাকার ভিতরে, মৃত্যু কোন পার্থক্য নেই।

কেউ সত্তোর টাকা গজের কাফনে তো কেউ দুইশ টাকা গজের কাফনে।

কারো কবরের উপরটা পাকা তো কারো কবরটা কাঁচা কিন্তুু আবরন সেই একই মাটির।

পৃথিবীর একমাত্র বৈষম্বহীন কাজের নাম দাফন।।

Leave a Comment