পুরানো অভ্যাস

যে মানুষ’টা অভাব অনটনে বড় হয়েছে, মাসের পর মাস না খেয়ে কাঁটিয়েছে তাকে যদি বলেন আজ রাত খাওয়ার মত কিছু নেই; সে কখনো খাওয়ার জন্য হাহাকার করবে না, বরং মাথা নাড়িয়ে বলবে, ‘ওহ আচ্ছা’

যে মানুষটা অবহেলায় বড় হয়েছে, কাছের মানুষ গুলো যাকে সবসময় অবহেলা করত, ভালোবাসার পরিবর্তে ঘৃনা করতো; তাকে দেখে যদি কোন ব্যক্তি পাশ কেঁটে চলে যায়, নতুন করে অবহেলা দেখায় তাহলে সে কখনো মাথা উচিয়ে দেখতে চাইবে না অবহেলাকারী নতুন মানুষটি কে!!

যে মানুষটি নিজ চোখে সুস্থ বাবা মার আকষ্মিক মৃত্যু দেখেছে, বাবা মার হাসতে হাসতে মরে যাওয়া দেখেছে; তাকে যদি দৌড়ে এসে বলেন, দেশের রাজা মারা গিয়েছে তাহলে তারমধ্যে শোকের আবাস একদমও লক্ষ্য করা যাবে না। বাবা-মা হারানো সব’চে বড় শোকের ব্যাপার। যার জীবনে বড় শোক প্রথমে হানা করে তার জীবনে ছোট শোক আর শোক থাকে না।

যে মেয়েটি ছোট থেকেই নির্যাতন সহ্য করে এসেছে, মানুষের মুখের খারাপ কথা শুনে এসেছে, অন্যের ঘরে কাজ করে জীবন চালায়, অন্যের ঘরে কাজ করে বলে অন্য মানুষের অন্যরকম কথাগুলো হজম করে চলেছে; তাকে যদি তার নববিবাহিত স্বামী গালি দেয়, অত্যাচার করে, মারধর করে তাহলে তার কোনদিন কোনরকম আফসোস থাকবে না এরকম ব্যাপারে! সে শুধু বলবে, ‘এই আর এমন কী!! ছোট থেকেই এসব দেখেই বড় হয়েছি, এসব আর নতুন নয় এসব এখন সয়ে যায়।

যে মানুষটি ভয় কী জানে না, কখনো ভূতের গল্প শুনেনি তাকে যদি যুদ্ধের ময়দানে ভূতের গল্প শুনিয়ে ভয় দেখানোর চেষ্টা করেন তাহলে কখনো তার সাহস কমে যাবে না।

কিছু কিছু ব্যাপার অভ্যাস হয়ে যায়। মানুষ অভ্যাসের দাস। একসময় জীবন আমাদের সাথে খেলে, খুব খারাপ ভাবে খেলে! জীবন খেলা খেলতে খেলতে একসময় বুঝে যায় জীবনের দুর্বলতা। একসময় জীবন দমে যায় তবে হার মানে না; কষ্ট দেয় তবে আগের মত আঘাত লাগে না।

Leave a Comment