বড্ড ভয়ঙ্কর ব্যাপার

জীবনের কোনো একটা অংশ নিয়েও লিখতে যাওয়া আমার কাছে বড্ড ভয়ঙ্কর ব্যাপার মনে হয়। কেউ একজন বলেছে এই বাস্তব জীবন নিয়ে কিছু একটা লিখে ফেলার জন্য। বাস্তবতার মাঝে আমি বরং অনেক বেশি অবাস্তবতা খুঁজে পাই। অ-বাস্তব রকমের গল্পে আমরা ‘অ’ বিশেষণ কেঁটে জীবন সাজাই। কারো কাছে জীবন কঠিন, বড় কঠিন। প্রতিটি মানুষের আলাদা আলাদা সুখ আছে, আলাদা আলাদা কষ্টও আছে। এই ভিন্ন ভিন্ন সুুখ দুঃখ জমা করে আমরা নিজ নিজ পার্সেপশনে জীবনের সঙ্গা দাঁড় করাই।

আমরা বরং প্রেমিকা নিয়ে খুব বেশি কবিতা লিখি। চুড়ি দেখলে সবার প্রথমে প্রেমিকার কথা মনে পড়ে। আবেগের গল্প লিখি সব প্রেমিকা নিয়ে। কোনো একদিন সে রাগ করলে আমাদের কত আহ্লাদ, অভিমান করলে কত শত ফুল নিয়ে হাটু ভেঙ্গে মাঝ রাস্তায় মাথা নত। শহরের নিয়ন আলোতে বসে কত স্বপ্ন বুনি। তোমার জন্য একটি রাজপ্রাসাদ বানাবো, প্রাসাদের সামনে একটি ফুলের বাগান।

কখনো ভাবি না, আমার মা’ও তো চুড়ি পড়ে। সেও তো ভেবেছে কোনো একদিন ছেলে আমার রাজপ্রাসাদে নিয়ে যাবে। বাগানের ফুলে মা ছাড়া কেউ আহ্লাদ করে প্রতিদিন জল দেবে না। আমার কাছে মনেহয়, পৃথিবীতে মা নামক একটা বস্তুর তুলনা কখনো হয় না। কিন্তু কখনো কখনো কিছু গল্প শোনা যায়, মা ছোট বাঁঁচ্চা রেখে চলে গেছে অথবা অন্যত্র পাড়ি জমিয়েছে নতুন করে। তবুও আমার কেমন করে যেন মনেহয়, যে নারী বেশ্যা বলে খ্যাত সে নারীরও আত্মার টান কমে না। এই নারী কখনো পাষাণ হতে পারে না। হয়তো কোথাও একটা অসীম ভালোবাসা নারীর বুকে থাকে সবসময়।
এই শহরের বাবারা কষ্টের বোঝা কাঁধে নিবে, আঘাতে পুড়ে ছাই হবে, কখনো কখনো এদের ডেডিকেশন এর কোনো সীমা থাকবে না। তবুও কখনো কখনো পাষাণ বাবার কথা শোনা যায়। এর ধর্ষক, এরা ঘুষখোর, এরা প্রচন্ড রকম কামুক। সবাই যেমন করে একজন খারাপ মায়ের গল্প বলে তেমন করে বাবার গল্প বলে না। এই শহরের বাবারা কখনো অনেক বেশি জঘণ্য হয়। কিন্তু কেউ বলে না।

মানুষ হিসেবে পাওয়া সবচে বড় উপহার হচ্ছে বাবা মা। কেউ পায় কেউ পায় না। কখনো কখনো কেউ পেয়ে হারিয়ে ফেলে। এই জীবন কঠিন নয়, মানুষ কঠিন। মানুষ কঠিন বলে অনেকে জীবনকে কঠিন ভাবে। খুব কষ্ট হতাশা নিয়ে বুক ফেঁটে কাঁন্না আসতে চাইলে নিয়ন আলোর আড়ালে কাঁন্নার জল বিসর্জন দিয়ে এসো। কাঁন্না শেষে তোমার কোনো কষ্ট এলোমেলো পড়ে থাকবে না, স্বচ্ছ কষ্ট থাকবে এবং সমাধানের সুন্দর পথটা কাঁন্নার পরই পরিষ্কার দেখা যায়। পৃথিবীতে মানুষ অনেক বড় ব্যাপার। কষ্ট এমনিতে আসে না। মানুষ মানুষকে কষ্ট দেয়। ছেড়ে চলে যায়, অবহেলায় অবজ্ঞায় দূরে ঠেলে দেয়। মিথ্যে অভিনয় করে। এই শহরে মানুষ মানুষকে কষ্ট দেয়, সুখ নিয়ে প্রতিযোগিতা করে, একজন মানুষকে অন্ধকারে ফেলে আসতে পারা কারো কারো কাছে সফলতা।

মানুষগুলোর মাঝে একজন বন্ধু পাওয়াও সহজ ব্যাপার নয়। এই জীবনে একজন তোমার মত বন্ধু পেয়ে গেলে তুমি একজন তোমাকে পেয়ে যাবে।
জীবন কঠিন নয়, কঠিন মানুষ গুলো। এরা ভালোবাসা বুঝে না। কোনো একদিন না খেয়ে থাকলে কেউ হাত বাড়িয়ে খাওয়াবে না। কষ্টের মাঝে সান্ত্বনা দিতেও অনেক মানুষের ভয় হয়। একাকীত্বে কখনো কেউ কেউ পাশে থাকে না। একটু হাসানোর চেষ্টাও কখনো কখনো কেউ করে না। সবকিছু স্বার্থের আর অর্থের মাপকাঠিতে বিচার হয়।
এই জীবন কঠিন নয়, মানুষ গুলো কঠিন। কঠিন মানুষগুলো বুকে আঘাত আনে না, এই মনের সহজসরল ভালোবাসা। কবিতার আবেগ তাদের আলতো করে ছোঁয়া দিতে পারে না, তাঁরা কঠিন, ভীষণ কঠিন। ফুল দিলে এদের অন্তর হতে হাসি ফোঁটে না, এরা বড় কঠিন।
এই সহজসরল জীবন নিয়ে লেখা সহজ নয়, মানুষ গুলো যে বড্ড কঠিন। তোমাকে জানতে হবে, অপাত্রে ভালোবাসা দেয়া যাবে না। তুমি একমাত্র তোমার কাছে খুব মূল্যবান। কখনো যদি কারো কাছে তোমার মূল্য অধিক হয় তাহলে ভেবে নিও এই জীবনে তুমি তোমার অন্য তুমি বানিয়ে ফেলেছো।

জীবন তোমার, তোমার যেমন সবার থেকে ভিন্ন রকম কষ্ট আছে, তেমনি সুখও আছে; আর তোমার জন্য লেখা আছে আলাদা এক উপন্যাস। কোনো একজন বড় মনীষী থেকে শিক্ষা নেওয়া শ্রেয় কিন্তু তাঁর মত করে জীবন পেতে চাওয়া মোটেও ভালো নয়। তোমার জন্য আলাদা করে গল্প লেখা আছে, এই জীবন তোমাকে তোমার মত করে শেখাবে, মানুষ গুলো তোমাকে যেভাবে কষ্ট দেবে সেরকম কষ্ট মনীষীরা হয়তো কখনো ফেইস করেননি। এই জীবন সহজ, মনেরেখো মানুষগুলো কঠিন।।

Leave a Comment