সিদ্ধান্তহীনতা

দুই বা তার অধিক জিনিসের মধ্যে একটি জিনিস সিলেক্ট করতে গেলে একটু কঠীন পরিস্থিতিতে পরতে হয়। এটাই হচ্ছে সিদ্ধান্ত। মনোবিজ্ঞানিরা বলেছেন, যখন দুই বা তার অধিক কোনাে অপশন বেছে নিতে হয়। ঠিক তখনি যে সমস্যাটি হয় সেটি হল সিদ্ধান্তহীনতা । এই সিদ্ধান্তহীনতা কম বেশী সবার মধ্যে থাকে। কিন্তু কারো কারো ক্ষেত্রে  এটি এক ধরনের সমস্যা দেখা দেয়।

সিদ্ধান্ত নিতে না পারার অনেক কারণ হতে পারে। তার মধ্যে প্রধান কারন হচ্ছে আত্নবিশ্বাসের অভাব। আত্নবিশ্বাস দূর্বল এর কারণে সিদ্ধান্ত নিতে ভয় পায়। আরেকটি কারণ হচ্ছে, দুটি বিকল্প জিনিসের মধ্যে কোনটি তার জন্যে ভালো মানের হবে, সেটি নিশ্চিত হতে না পারা।

সিদ্ধান্তহীনতার ফলে যে সমস্যা গুলো সৃষ্টি হয়

সিদ্ধান্ত নিতে না পারলে নতুন কোনো পদক্ষেপ নিতে পারে না। কোনো সিদ্ধান্ত নিতে গেলে ‍অনেক চিন্তা করে এবং নানান মানুষকে জিজ্ঞেস করে। একটি ‍সিদ্ধান্তও তারা ঠিক মতন নিতে ‍পারে না। আবার কোনো ‍সিদ্ধান্ত নিলে কয়েকদিন পর সেটি আবার পরিরর্তন করে। এই পরিবর্তন এর কারনে হলো-তাদের মনে হয় আগের ‍সিদ্ধান্ত ভুল ছিলো।

 এই সিদ্ধান্তহীনতার কারণে তীব্র মানসিক চাপে ভোগে এবং ডিপ্রেশনে চলে আসে। সবসময় অস্থীরতা কাজ করে। আর যদি দেখে তার নেওয়া সিদ্ধান্ত নেওয়া ভুল হইছে, তাহলে তার আত্নবিশ্বাসের ‍পয়েন্ট শূন্যর কোঠায় নিয়ে যায়।

এতে আরো সমস্যা হয়ে উঠে। কোনাে একটা কাজ করতে গেলে যে টুকু পরিশ্রম করা দরকার তা বাদ ‍দিয়ে সে ঐ ‍সিদ্ধান্তের উপর ফোকাস দেয়। ফলে কাজটা  অসম্পূর্ণ থাকে।

এর থেকে পরিত্রাণ এর উপায়

সব কিছু খুব সহজে নিতে হবে। যে কোনো বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিলে অনেক সময় ভুল হতেই পারে। তাই বলে ভুল কেনো হলো তা নিয়ে আত্নবিশ্বাস হারানো যাবে না। সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় মানসিক ভাবে নিজেকে মনোবল উচ্চ লেভেলে রাখতে হবে। ‍সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে ভাবুন- এর কি কি ইতিবাচক দিক এবং কি কি নীতিবাচক দিক এর প্রভাব পরবে তার সম্পর্কে  নিজেকে প্রস্তুত রাখুন।
নিজের সাথে অন্যের তুলনা করবেন না। সে এটা পারলো আপনি কেন পারলেন না! প্রতিদিনকার ছোটখাটো বিষয়ে সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত বিশ্লেষণ করবেন না। এসব বিষয়ে ছোটখাটো ভুল আপনার জীবনধারার গতিপথে খুব বেশি পরিবর্তন আনবে না। বরং এসব নিয়ে অতিরিক্ত বিশ্লেষণ আপনার অযথা সময় ক্ষেপণ করবে।
 মাঝে মাঝে দেখবেন পরিবারের অনেকে অন্যের সাথে আমাদের তুলনা দেয়। এর ফলে অনেকের আত্নবিশ্বাস কমিয়ে দেয়। ফলে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে সমস্যা হয়। তাই অন্যের সাথে নিজের তুলনা করা আজই বন্ধ করুন।

প্রশংসা

নিজের প্রশংসা করুন। জীবনের ইতিবাচক দিক গুলোর জন্য নিজেকে প্রশংসা করুন।

শিশুদের ক্ষেত্রে

ছোট শিশুদের ক্ষেত্রে খেয়াল রাখুন- তাদেরকেও ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র বিষয়ে ‍সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ ‍দেন। এই যেমন, সকালে কি দিয়ে নাস্তা করা যায়- এসব ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র এতে তাদের আত্নবিশ্বাস ছোট কাল থেকে বৃদ্ধি পায়।

Leave a Comment